হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না ইরান, দিল কঠোর সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না ইরান, দিল কঠোর সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স কৌশলগত এই জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানানোর পর শনিবার (৪ জুলাই) এ সতর্কবার্তা দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাজেম গারিবাবাদি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বাইরের শক্তিগুলোর সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়।’

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপকূলবর্তী দেশগুলোর। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে ইরান যেকোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে, তাদেরই এর পরিণতির দায় বহন করতে হবে। এটিকে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গারিবাবাদির এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথভাবে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা বৃহত্তর বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও জানিয়েছে দুই দেশ।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ জলপথে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।