ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল

ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মামলায় হেরে গেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। লুক্সেমবার্গভিত্তিক ইইউর জেনারেল কোর্ট বুধবার (৮ জুলাই) রায়ে কোম্পানিটির করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে অ্যাপ স্টোর এবং আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে অ্যাপলকে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের আওতায় নির্ধারিত সব বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে।

২০২৩ সালের মে মাসে কার্যকর হওয়া ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের উদ্দেশ্য হলো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব কমানো, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বেশি বিকল্প নিশ্চিত করা। এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাপল, মেটা এবং বাইটড্যান্সসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়। ২০২৪ সালে অ্যাপল আদালতে মামলা করে দাবি করে, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি এবং অ্যাপল ওয়াচের অ্যাপ স্টোরগুলোকে একত্রে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করা যৌক্তিক নয়।

তবে আদালত এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, অ্যাপলের বিভিন্ন অ্যাপ স্টোরের মূল উদ্দেশ্য একই—অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করা এবং সফটওয়্যার বিতরণে সহায়তা করা। তাই এগুলোকে একত্রে ‘গেটকিপার’ হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ।

এ ছাড়া আইওএস অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতাও প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারকরা। এই মর্যাদার ফলে অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সেবা ও অ্যাপের সঙ্গে আরও সহজে আন্তঃসংযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

আইমেসেজ (iMessage) নিয়ে অ্যাপলের আপত্তিও আদালত গ্রহণ করেননি। আদালতের ভাষ্য, বর্তমানে আইমেসেজের ওপর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়নি। ফলে এ বিষয়ে অ্যাপলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, তাদের মতে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর। কোম্পানিটির দাবি, এই আইন তাদের দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আপিল করার সুযোগ এখনো রয়েছে অ্যাপলের।