ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সামরিক সম্প্রসারণের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র ক্রয় ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ বিশ্বে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

শনিবার (১২ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মন্তব্য করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের পর সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয়ই বাড়াচ্ছে না, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও জোরদার করছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এর মাধ্যমে ন্যাটো সামরিক জোটভিত্তিক মুখোমুখি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, ন্যাটো তাদের বৈধ সার্বভৌম অধিকার ও আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটির ভাষ্য, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা, উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ন্যাটো মূলত যুদ্ধ ও সংঘাতকেন্দ্রিক একটি সামরিক জোট, যা ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবর্তে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এছাড়া, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়া বলেছে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক চাপ আর কার্যকর হবে না। তাদের মতে, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে হলে আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা দেশগুলোর ভূমিকাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তর কোরিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। এর একদিন আগে দেশটির নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা সংখ্যাগত ও গুণগত—উভয় দিক থেকেই বাড়ানোর ঘোষণা দেন।