বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পরও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অতিরিক্ত সময়ে জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে শেষ চারে উঠলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আক্রমণভাগে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
রোববার (১২ জুলাই) কানসাস সিটির ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে সুইসদের গোলমুখে মাত্র দুটি শট রাখতে সক্ষম হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠে চিন্তামগ্ন দেখা যায় মেসিকে। অভিজ্ঞ এই তারকা জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও উন্নত ফুটবল খেলতে না পারলে ফাইনালে ওঠা কঠিন হবে।
আগামী বুধবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।
৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এটি হবে ২০৬তম ম্যাচ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি।
২০০৫ সালে জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তবে জাতীয় দলে অভিষেকের পর লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই ম্যাচে দলে ছিলেন না মেসি।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে।
তবে দুই দেশের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবার সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা। আর ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে দলকে ফাইনালে তুলতে চান লিওনেল মেসি।
