ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি মার্কিনিদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন সমর্থনের হার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে রোববার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনমতের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে।
যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়: জরিপ জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ রিপাবলিকানও রয়েছেন, মনে করেন ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
সংঘাত শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প কখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনে সহায়তা, কখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস এবং কখনও দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার কথা বলেছেন।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট জনমত জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন না। ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
জনপ্রিয়তা সামান্য বেড়েছে যুদ্ধের সমর্থন কমলেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনুমোদনের হার কিছুটা বেড়েছে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, তার জনপ্রিয়তা ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
তবে জরিপে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কখনোই ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেনি।
অতীতের যুদ্ধের তুলনায় কম সমর্থন রয়টার্স-ইপসোসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতীতের বড় সামরিক অভিযানের তুলনায় বর্তমান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধে প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিনি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণ এখনও তার কাছে পরিষ্কার নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আস্থা কমেছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াসহ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় মূল্য ৪ ডলারের বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ৩ ডলার ছিল।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যালেক্স কোনান্টের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অর্থনৈতিক ইস্যুতে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ আগামী কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করতে চান, যেখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন ২০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, রয়টার্স-ইপসোসের এই জরিপে ১ হাজার ২৪৬ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল ±৩ শতাংশ পয়েন্ট।
