গ্রেপ্তার দেখানো হলো ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক অজয় কর খোকনকে

গ্রেপ্তার দেখানো হলো ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক অজয় কর খোকনকে

আইন-আদালত

জুলাই বিপ্লবের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকায় মো. নাজমুল (২৫) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আখতারুজ্জামান সরকার আদালতে অজয় কর খোকনকে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

অজয় করের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তার মক্কেলকে এ পর্যন্ত তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার দাবি, অজয় করকে নতুন করে গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। আদালতের এ আদেশ সেই নির্দেশনার পরিপন্থী এবং এটি সংবিধানবিরোধী।

এদিন শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল সোহাগ সাইফুল ও জাকির হোসাইনসহ অন্যরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে নাজমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের এক সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করে, তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদন জানায় পুলিশ।