জুলাই আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন তথ্য উঠে এসেছে কয়েকটি ফোনালাপ থেকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব ফোনালাপ উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের কথোপকথনে বিষয়টি উঠে আসে।
ফোনালাপের তথ্য অনুযায়ী, সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ ঘটনায় হারুন অর রশিদকে ডিবির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ছবি প্রকাশের দাবি আরেকটি ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশিদ জানান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই সমন্বয়কদের খাবার খাওয়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা বিরক্ত হন এবং হারুনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে ফোনালাপে উল্লেখ করা হয়।
তবে হারুনকে সরিয়ে দিলে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও একটি ফোনালাপে উঠে আসে। এ নিয়ে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মধ্যে কথোপকথনের তথ্যও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ উপস্থাপন
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ফোনালাপও দাখিল করা হয়েছিল।
এদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলায় আজ সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত ফোনালাপ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে।
