মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নে সারাদেশে বিশেষ অভিযান

মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নে সারাদেশে বিশেষ অভিযান

জাতীয়

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিচার পরিচালিত হচ্ছে যেখানে অপরাধের ধরন ও মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের প্রথম তফসিলে মাদককে ক, খ ও গ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক শ্রেণিভুক্ত হেরোইন, কোকেন, মরফিনের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি এবং ইয়াবার পরিমাণ ৪০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। খ শ্রেণিভুক্ত গাঁজা এবং গ শ্রেণিভুক্ত অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে সর্বনিম্ন তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও আদালত চাইলে সেবনকারীকে কারাদণ্ডের বদলে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার সুযোগ দিতে পারেন। মাদক সংক্রান্ত অপরাধগুলো জামিন অযোগ্য এবং ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ক শ্রেণির মাদক সেবন বা হয়রানিমূলক তল্লাশির অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

আইনজীবীরা এই আইনকে সময়োপযোগী ও মানবিক উল্লেখ করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।