রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণই দেশের সংকটের মূল কারণ: আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণই দেশের সংকটের মূল কারণ: আলী রীয়াজ

জাতীয়

বাংলাদেশের চলমান সংকটের মূল কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। ২০০৯ সালের পর রাষ্ট্রযন্ত্র খুব সহজ ও সরল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য অথরস টেবিল’ শীর্ষক এক সেশনে বক্তব্যদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।

হোটেল সোনারগাঁওয়ের মেঘনা কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কি চক্র ভাঙতে পারবে?’ শীর্ষক এই আলোচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজের লেখা ‘এ ফ্র্যাকচারড পাথ’ বইটির নানা দিক ও প্রশ্ন তুলে ধরা হয়। সেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ব্যর্থতার কারণ, মূল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা, কাঠামোগত বাধা এবং চলমান পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠন সম্ভব কি না—তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, “বর্তমানে আমলারা আর নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র হিসেবে কাজ করতে চান না। তারা রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করা ও তাদের নির্দেশ মেনে চলাকেই বেশি পছন্দ করেন।”

বাংলাদেশ কি চলমান এই নেতিবাচক চক্র ভাঙতে পারবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনই ভেঙে পড়া যাবে না বা হতাশ হওয়া ঠিক হবে না। তবে তিনি আশাবাদী প্রকাশ করলেও সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশ এই চক্র ভাঙতে পারে, কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—আমাদের রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি সত্যিই তা করতে ইচ্ছুক?”

জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সপক্ষে তিনটি প্রধান ইঙ্গিতের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান, রাজনৈতিক কোনো স্পষ্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়াই বাংলাদেশে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি গণভোট ও জনগণের পরিবর্তনের সদিচ্ছার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

দেশে পরিবর্তন আনতে কোন পদক্ষেপগুলো জরুরি—তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীন না হলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ অসম্ভব। বর্তমানে এসব মৌলিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্বাহী বিভাগের অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকি।

সেশনে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা মাইকেল লিডাউয়ার এবং ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত।