সারা দেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বারবার দাম বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীদের আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে।
এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগ জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানির উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভোক্তাদের জন্য সহনীয় দামে এলপিজি সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা চলছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বেসরকারি আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহের ঘাটতি এড়ানো এবং আগামী বছর পর্যাপ্ত এলপিজি নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও আলোচনা চলছে। আগামী ৩০ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে বলে জানান মন্ত্রী।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা বাজারে ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না।
একই সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এলপিজির সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। তবে দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘটের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হলে তা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এলপিজি আমদানি করে। সরকার সরাসরি এলপিজি আমদানি করে না। তবে বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে।
ব্যবসায়ীদের লাভ-লোকসান, কমিশনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনতে এবং যৌক্তিক সমস্যার সমাধান করতে প্রস্তুত। তবে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার করলে বা জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না।
কেন এলপিজির দাম ভারতে তুলনায় বেশি বাংলাদেশে ভারতের তুলনায় এলপিজির দাম বেশি হওয়ার বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ভারতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে এলপিজির দাম কম রাখে। নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীরা সেখানে এলপিজি পান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে এ ধরনের ভর্তুকি নেই। বেসরকারি আমদানিকারকেরা এলপিজি আমদানি করে উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।
১৫ ও ১৬ অক্টোবর দোকান বন্ধের ঘোষণা
ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
গত সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হলে দুই দিনের কর্মসূচির পর আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার। বৈঠকে চলতি সময় ও আগামী বছর এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
