ভারত সরকারের দেশত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, কোনো বক্তব্য শোনার আগেই তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা একতরফা ও অসাংবিধানিক। এদিকে, ইমরান খানের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে আবেদন করেন ইমরান খানের আইনজীবীরা। আবেদনের দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি চেয়েছেন তাঁরা। আগামী সোমবার আদালতে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ
ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী ইমরান খান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইমরানের আইনজীবীদের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। কোনো বিক্ষোভের মধ্যে উপস্থিত থাকা কিংবা চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মত প্রকাশ করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাঁদের মতে, ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য সব ধরনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ—এমন শর্তও নেই।
দেশত্যাগের নির্দেশকে অসাংবিধানিক দাবি
আদালতে করা আবেদনে ইমরান খানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই দেশত্যাগের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এ সিদ্ধান্ত একতরফা, অযৌক্তিক ও ভুল ধারণার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে যেন কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। তাঁকে জোরপূর্বক ভারত থেকে পাঠানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি না করারও আবেদন জানানো হয়েছে।
ইমরান খানের আইনজীবীরা সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের যুক্তি, এসব অনুচ্ছেদে সমতা, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে।
ওসিআই কার্ড বাতিল নিয়ে নতুন নোটিশ
দেশত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করার দিনই ইমরান খানকে নতুন একটি নোটিশ পাঠায় এফআরআরও। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল করা হবে না।
বিষয়টি নিয়ে ইমরানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন জানিয়েছেন, নতুন নোটিশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদালতের শুনানিতে প্রথম ও দ্বিতীয় নোটিশের আইনি গুরুত্ব তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথমে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইমরানের আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, দ্বিতীয় নোটিশের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ আগের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ওসিআই কার্ড বাতিলের বিধান কী?
ভারতের নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওসিআই কার্ড বাতিলের বিধান রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সহ আইনে উল্লেখিত বিভিন্ন কারণে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে।
৪৪ বছর বয়সী ইমরান খান ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে তাঁর জন্ম। তিনি বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগনে হিসেবে পরিচিত।
দেশত্যাগের নির্দেশ ও ওসিআই কার্ড বাতিলের নোটিশকে কেন্দ্র করে এখন বম্বে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।
