মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খুলনা থেকে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট থেকে খুলনায় যাওয়ার পথে রূপসার তিলক এলাকায় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে বন্দরটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে এ অঞ্চলের উন্নয়নে অনেক কাজ করার দাবি করা হলেও স্থানীয় মানুষের এখনো বিমানবন্দর, চার লেনের সড়ক, রেল যোগাযোগ এবং বন্দরের উন্নয়নের দাবি রয়েছে। এসব কাজ বাকি থাকলে এত বছর ধরে এলাকার উন্নয়নে কী করা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত এক যুগের বেশি সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। তাঁর দাবি, ওই সময়ে মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া, গুম-খুনের রাজনীতি, অর্থ-সম্পদ লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা অঞ্চলের শিল্পায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা ছিল। বিভিন্ন কারণে সেগুলোর অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত একটি বিস্তৃত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিবেশ তৈরি করতে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে।
গত দুই সপ্তাহে দুবার বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চল সফরের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার কাজ করছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের চেষ্টা চলছে। বিশ্বে চলমান দুটি যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও সরকার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (দ্বিতীয় মৌসুম)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
