বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর?

বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর?

বিনোদন

একসময়কার জনপ্রিয় শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা অনেক আগেই শোবিজ অঙ্গন থেকে সরে গেছেন। সম্প্রতি নতুন জীবনে পা রেখে আবার আলোচনায় এলেও তার বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে করেছেন তিনি।

১৫ বছর বয়সে বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—এটি আইনত বৈধ কি না। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষদের জন্য ২১ বছর নির্ধারিত।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী বলেন, “কন্যার বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে কাজি সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো বিয়ে আইনত বৈধ নয়। বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশে গিয়ে কোর্ট স্ট্যাম্পে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ হিসেবে গণ্য হয় না; বরং সেটি একসঙ্গে বসবাস (লিভ টুগেদার) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান আইনে তার বিয়ের বয়স হয়নি।

আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তির বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক কেউ বাল্যবিবাহে অংশ নিলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটক বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

এছাড়া আইন অমান্য বা মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।