যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, ইরান এখনো তার সব ‘বিজয়ী তাস’ প্রকাশ করেনি। প্রয়োজন হলে শত্রুদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা গণমাধ্যম ও মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার জবাব দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের উপ-পরিদর্শক আসাদি।
তিনি বলেন, ইরান বহুবার জানিয়েছে যে তাদের সব সামরিক সক্ষমতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী উপায় ব্যবহার করা হবে।
ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প সম্পর্কে আসাদি দাবি করেন, দেশটির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর অবস্থান সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে এবং শত্রুপক্ষ এসব সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের জনগণ। তার ভাষায়, জনগণের সমর্থনই দেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এবং এ কারণে পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই।
ন্যাটো ও পশ্চিমা দেশগুলোর হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তারা সফল হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার’ হুমকির জবাবে আসাদি বলেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং প্রয়োজন হলে সীমিত সম্পদ নিয়েও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানের আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা। তবে ইরানি জনগণ এমন কোনো চাপ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তার দাবি, আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার সমস্যার সমাধান হবে না।
আসাদি বলেন, আত্মসমর্পণ যখন বিকল্প নয়, তখন যুদ্ধের সম্ভাবনা সামনে আসে। ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং ন্যাটো জড়ালেও তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা বারবার দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরছেন।
