বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেও মেক্সিকোয় নিখোঁজ মানুষের খোঁজে ব্যতিক্রমী প্রচারণা

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেও মেক্সিকোয় নিখোঁজ মানুষের খোঁজে ব্যতিক্রমী প্রচারণা

খেলাধুলা

তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করছে মেক্সিকো। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে এককভাবে আসরটি আয়োজনের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে তারা।

বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও আয়োজক শহরগুলোর একটিতে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আনছেন মানবাধিকারকর্মী ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। বিশেষ করে গুয়াদালাহারায় বাড়তে থাকা নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেরেরেই—এই তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ১৩টি ম্যাচ। এর মধ্যে গুয়াদালাহারায় রয়েছে চারটি ম্যাচ। তবে হালিস্কো অঙ্গরাজ্যের এই শহরে গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৬ হাজার মানুষের নিখোঁজ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে অভিনব প্রচারণা শুরু করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা। ফুটবল খেলোয়াড়দের ট্রেডিং কার্ডের আদলে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ কার্ড ও পোস্টার। এসব কার্ডে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি, শারীরিক বর্ণনা এবং নিখোঁজ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন ল্যাম্পপোস্ট, বাসস্টপ ও জনসমাগমস্থলে লাগানো এসব পোস্টারে লেখা থাকছে—‘আমরা তোমাকে মিস করি’, ‘তাকে কি দেখেছেন?’ কিংবা ‘আমরা তোমাকে খুঁজছি’।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থী আসবেন—এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনতে চান তারা।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসব পোস্টার সরিয়ে ফেলা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার নামে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, নাগরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের চেয়ে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশটির প্রভাবশালী মাদক চক্রের নেতা ‘এল মেনচো’ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। তার মৃত্যুর পর মাদক চক্রের সদস্যরা মেক্সিকোর অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা ও তাণ্ডব চালায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতিও এখন মেক্সিকোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।