কট্টরপন্থি ইহুদি যুবকদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি এবং আটকাদেশের প্রতিবাদে ইসরায়েলে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দেশটির বেইত লিদ সামরিক কারাগারের সামনে অবস্থান নিয়ে শত শত আল্ট্রা-অরথোডক্স ইহুদি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আটক ধর্মীয় শিক্ষার্থী ও যুবকদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারাগার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আইনে ১৮ বছর বয়সী নারী-পুরুষ নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনায় নিয়োজিত আল্ট্রা-অরথোডক্স ইহুদিরা এতদিন বিশেষ ছাড়ের আওতায় ছিলেন। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা এই সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
কিন্তু গাজা ও লেবানন সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সেনাবাহিনীতে জনবলের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার এই বিশেষ ছাড় বাতিল করে। নতুন আইনের আওতায় আল্ট্রা-অরথোডক্স যুবকদেরও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই কট্টরপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শহরে নিয়মিত বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সেবা ইস্যুতে সরকার ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হলে তা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
