ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন নেতানিয়াহু

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সোমবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ইসরায়েলি সূত্র।

সূত্রটির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির বিষয়টি।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর নিরাপত্তা সহায়তা চুক্তির আওতায় ইসরায়েল প্রতি বছর প্রায় ৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ২০২৮ সালে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই নেতার আলোচনায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও গুরুত্ব পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এ উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সৌদি আরব একাধিকবার জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পথ নিশ্চিত না হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে থেকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই নেতা টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলাপেই শিগগির মুখোমুখি বৈঠকের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন তারা।

শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল সিদ্ধান্ত কার হাতে।’ তার এই মন্তব্য দুই নেতার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে জুনের মাঝামাঝি সময় সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠক চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। যদিও সে সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ওই দাবি অস্বীকার করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে কৌশল, ভবিষ্যৎ সামরিক সহযোগিতা এবং আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক অঞ্চলটির ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।