২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে পরাজয়ের পাশাপাশি আলবিসেলেস্তেদের নাম যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের শেষদিকে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বাধিক তিনটি লাল কার্ড দেখা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখায় আর্জেন্টিনা। ক্রীড়াবিষয়ক সাময়িকী স্পোর্টস মোল এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ম্যাচে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন চেলসি তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়।
এনজোর বহিষ্কারের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের তালিকায় এনজো যোগ দিলেন পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভো দেজোত্তির সঙ্গে। ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ওই দুজনই লাল কার্ড দেখেছিলেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালের এক ম্যাচে একই দলের দুই খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র ঘটনাও সেটি।
এনজোর লাল কার্ডের আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালের ফাইনালে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখেছিলেন। এবার এনজোর বহিষ্কারের মাধ্যমে এককভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজেদের করে নিল আর্জেন্টিনা।
এদিকে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল চারবার। ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের পর এবারও শিরোপার খুব কাছে গিয়ে ব্যর্থ হলো আলবিসেলেস্তেরা। ফলে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার তালিকায় জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
