আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। বন্দরটি জ্বালানি, খাদ্য ও কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ জন্য বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এ সময় সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।
