সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীতে দুটি প্রভাবশালী গ্রুপ গড়ে উঠেছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।
আদালতের তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে জেরা করেন।
জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর পুলিশে রাজনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। কিছু কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় তারা প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তারা প্রায় রাতভর বৈঠক করতেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশীদ, এসবির মনিরুল ইসলাম, ঢাকার ডিআইজি নুরুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার, এএসপি কাফী, ওসি মাজহার, ফোরকান অপূর্বসহ আরও অনেকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আরও জানান, সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় চেইন অব কমান্ড মানা হতো না। এছাড়া র্যাবে থাকাকালীন টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলসহ বিভিন্ন বন্দিশালার বর্ণনাও তিনি আদালতে উপস্থাপন করেন।
