চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃষ্টিনন্দন কিছু উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি তুলেছেন, যা প্রকাশ করেছে নাসা।
মহাকাশ সংস্থাটি জানায়, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এসব ছবি ধারণ করেন। চাঁদের পথে যাত্রার আগে ক্রুরা শেষবারের মতো ইঞ্জিন চালু করে নিজেদের অবস্থান ঠিক করে নেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রথম ছবিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’। এতে আটলান্টিক মহাসাগরের বিশাল নীল অংশ ও পৃথিবীর চারপাশের পাতলা বায়ুমণ্ডলের আভা স্পষ্ট দেখা যায়। সূর্যের আলো আড়াল হওয়ায় ছবিতে বিশেষ আলোকছটা তৈরি হয়েছে।
ছবিতে পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে সবুজ অরোরার উপস্থিতিও ধরা পড়ে। বাম পাশে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ এবং ডান পাশে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দেখা যায়। ছবির নিচের দিকে উজ্জ্বল যে গ্রহটি দেখা যাচ্ছে, সেটি শুক্র।
‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন’ (টিএলআই) বার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এসব ছবি তোলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ে এবং চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করে। চারজন নভোচারী এখন দুই লাখ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে চাঁদের দূরের প্রান্ত ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফেরার পথে রয়েছেন।
১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে গেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভোচারীরা ৬ এপ্রিল চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
নাসা আরও জানায়, মহাকাশ থেকে তোলা আরেকটি ছবিতে পৃথিবীকে দিন ও রাতের দুই ভাগে বিভক্ত দেখা যায়, যার সীমারেখাকে ‘টার্মিনেটর’ বলা হয়। আরেক ছবিতে অন্ধকার পৃথিবীর বুকে মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকও ধরা পড়েছে।
এই ছবিগুলোর সঙ্গে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের সময় তোলা ছবির তুলনাও প্রকাশ করেছে নাসা। সংস্থাটি বলেছে, সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি এগোলেও মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সৌন্দর্য এখনও একইরকম মুগ্ধকর।
