হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে সময় লাগবে ৬ মাস

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে সময় লাগবে ৬ মাস

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গোপনীয় ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে এই তথ্য দেন। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া আইনপ্রণেতাদের মতে, ব্রিফিং শেষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইনপ্রণেতারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের ব্যয়, কৌশল ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলেও কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এছাড়া যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের একটি স্কুলে হামলার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে প্রায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছিল বলে জানানো হয়। নিহতদের বেশিরভাগই অল্পবয়সী শিক্ষার্থী।

এদিকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের পর গত এক সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ও ইরান-সংশ্লিষ্ট মোট ৩৪টি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থান করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ১৩ এপ্রিল থেকে সোমবার পর্যন্ত ১৯টি জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং ১৫টি জাহাজ প্রবেশ করেছে। বহির্গামী জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টি ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল, যার পরিমাণ প্রায় ১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল।

তবে এসব তেল শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজ আটক করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে সশস্ত্র ও মুখোশধারী ইরানি সেনাদের একটি পণ্যবাহী জাহাজে উঠতে দেখা যায়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বুধবার তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ আটক করেছে এবং সেগুলোকে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।