সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত একটি স্বাস্থ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ঘানা। শুক্রবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তির কিছু শর্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মার্কিন সংস্থাগুলোকে ঘানার গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্যের অ্যাক্সেস দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ কারণে চুক্তি থেকে সরে আসে দেশটি। একই ধরনের উদ্বেগে এর আগে আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশও এমন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঘানার ডাটা প্রোটেকশন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আর্নল্ড কাভারপুও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ তথ্য চাইছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এতে দেশের তথ্য সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় আফ্রিকার প্রায় দুই ডজন দেশের সঙ্গে এ ধরনের স্বাস্থ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায়।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব চুক্তিতে তথ্য ব্যবহারের যথেষ্ট সুরক্ষা নেই এবং এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।
এর আগে জিম্বাবুয়ে একই কারণে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জাম্বিয়া কিছু শর্তে আপত্তি জানিয়েছে। আফ্রিকা সিডিসির কর্মকর্তারাও তথ্য আদান-প্রদান ও রোগজীবাণু শেয়ার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ঘানা পাঁচ বছরে প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার পেতে পারত। তবে কাভারপুওর মতে, এতে দেশের স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থার ওপর বিদেশি সংস্থার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি ছিল।
শেষ পর্যন্ত ঘানা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা আরও নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য শর্তে নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী।
