ইয়ামালের ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-স্পেনের বা'গ'যু'দ্ধ

ইয়ামালের ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-স্পেনের বা’গ’যু’দ্ধ

আন্তর্জাতিক

২০২৫-২৬ মৌসুমের স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। শিরোপা উদযাপনের বিজয় প্যারেডে ক্লাবটির তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা যাওয়ায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও স্পেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

উৎসবমুখর পরিবেশে বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে, তখন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। তার এই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ একে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, গাজার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন আচরণ উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বার্সেলোনাকে বিষয়টি থেকে নিজেদের দূরে রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি মন্ত্রীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, ইয়ামালের মতো বহু স্প্যানিশ নাগরিক ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং এটি ঘৃণা নয় বরং মানবিক অবস্থান।

সানচেজ আরও বলেন, যারা এটিকে ঘৃণা উসকে দেওয়া বলে মনে করেন, তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বা ভুল দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করেন। তার মতে, ইয়ামালের এই পদক্ষেপ স্পেনের অনেক নাগরিকের অনুভূতিরই প্রতিফলন।

প্রসঙ্গত, মুসলিম পরিবার থেকে আসা বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলার ইয়ামাল এর আগেও বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে তার ব্যক্তিগত আবেগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

তবে গাজার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফুটবল মাঠের এই প্রতীকী সংহতি এখন ক্রীড়াঙ্গনের সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।