নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নগদ টাকা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১১টা থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় থানা পুলিশ।
প্রথম অভিযানে রাত ১১টার দিকে কাশোপাড়া এলাকার সোহেল হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ এবং পাঁচটি ডেস্কটপ কম্পিউটার জব্দ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল হোসেন নামে দুই ব্যক্তি এবং রবিউল ইসলাম নামে একজন।
পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দিনবনি হাড়ি এলাকার ফজলুর রহমানের বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িটির কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন তরুণ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সেন্টার পরিচালনা করছিলেন। সেখানে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনকে গভীর রাতে জুয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
এ অভিযানে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় ১৫টি মোবাইল ফোন, ১১টি কম্পিউটার, ১১টি মনিটর, ১১টি কিবোর্ড এবং তিনটি ল্যাপটপ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আল আমিন (২৮), আল মামুন (২২), শাকিল বাবু (১৯), বদিউজ্জামান (২০), শাফায়েত রাব্বি (১৯), আরিফ হোসেন (৩০), মুশফিকুর রেজা (২২), রবিউল ইসলাম (২৬), নাইস বাবু (২৫), রোমান বাবু (২১), নাজমুল হোসেন (২৭) ও শাফায়েত (১৯)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
