কোরবানির পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হাসিল উপেক্ষা করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জেলায়। ইজারাদারদের কর্মীরা ‘হাসিল’ ও ‘খুঁটি ভাড়া’র নামে গরুপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রতিদিন আনুমানিক শত কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক অনুসন্ধানে।
চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত হার থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় তা মানা হচ্ছে না। অতিরিক্ত আদায়ের বড় অংশই রশিদ ছাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ খামারি ও ব্যবসায়ীদের।
সিরাজগঞ্জের কান্দাপাড়া পশুর হাটে গরু বাঁধার খুঁটির জন্য গরুপ্রতি ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যদিও এর কোনো সরকারি নিয়ম নেই। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ৫০০ টাকার হাসিলের পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ৭০০ টাকা। হাটের ইজারাদারের দাবি, অতিরিক্ত টাকা রশিদে উল্লেখ করা হয় না এবং এটি ‘ঈদের সালামি’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান জানান, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জের ২২টি পশুর হাটে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার গরু বিক্রি হয়। অতিরিক্ত আদায়ের হিসাবে জেলাটিতে দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে পাবনার ২০টি পশুর হাটে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ কোটি টাকা এবং কুষ্টিয়ার ১৬টি হাটে গড়ে ৫০০ টাকা করে বেশি আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি টাকা লেনদেনের বাইরে থাকছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান পশুর হাটসহ প্রায় ৯০টি হাটে গরুপ্রতি অতিরিক্ত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলাটিতে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর পশুর হাটেও ‘হিসাব রাখা’ ও গরু নামানোর স্থান ব্যবহারের নামে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে যেতে পথে ও হাটে মিলিয়ে তাকে অতিরিক্ত ২৪ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে।
এদিকে, পশুবাহী ট্রাক থেকে পথে পথে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় এমন অভিযোগের পর এক এসআইসহ পাঁচ কনস্টেবলকে বগুড়া হাইওয়ে রেঞ্জ থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
