মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ট্রাম্পের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উভয় পক্ষ নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরান ও ইসরায়েলকে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবে তার এই বার্তার পরও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং আরও কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে রাতভর ইরান ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে। ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, নতুন সামরিক অভিযান সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
এর আগে ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে ইসরায়েলকেও তা মেনে নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সোমবার নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সবশেষ পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিরতি টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
