হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে দুর্ঘটনাটি হামলা, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার আগে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলটই নিরাপদে আছেন এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
ট্রাম্প বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন পরে প্রকাশ করা হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন মোতায়েন রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এটিই প্রথম অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা।
সেন্টকম জানিয়েছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। একইসঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছে তারা।
এদিকে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি ছোট অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে।
তবে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রও কিছু ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ৩৯৯ জন আহত হন।
এ ছাড়া মার্চ মাসে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাইলটদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
