দেশে গত তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৬৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬০ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ হাজার ৫৭৯ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন হাজার ৭৩৮ জন রোগী।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তত ৫০টির বেশি দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, যুক্তরাজ্য, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও কঙ্গোতে উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকা গ্রহণে অনীহা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের কারণে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের সব জেলা ও উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে বিশেষ টিকাদান অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
