হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ চলাচলের চেষ্টা করায় ছয়টি জাহাজ থামানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (২৭ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জাহাজগুলোকে থামানো হয়। তবে সেগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল বা কী ধরনের পণ্য বহন করছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে নির্ধারিত নৌপথের বাইরে ‘অবৈধ ও অনিরাপদভাবে’ চলাচলের চেষ্টা করছিল।
ওই সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছয়টি জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজকে ঘিরে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটে। বাকি পাঁচটি জাহাজকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পারস্য উপসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে জাহাজগুলোর পরিচয়, ক্রু সদস্যদের তথ্য বা ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি সূত্র আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নৌপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথ ব্যবহার করাই বাধ্যতামূলক এবং এর বাইরে অন্য কোনো রুটে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান দাবি করলেও ছয়টি জাহাজ থামানোর ঘটনাটি এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।
