রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে প্রকাশ্য ভোটে, জানুন যেভাবে ভোট দেবেন এমপিরা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে প্রকাশ্য ভোটে, জানুন যেভাবে ভোট দেবেন এমপিরা

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সাল কামালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের সর্বশেষ প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

আইন অনুযায়ী, দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে নয়, সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রত্যেক সংসদ সদস্য একটি করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—কাউন্টার ফয়েল ও আউটার ফয়েল।

কাউন্টার ফয়েলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম ও নির্দিষ্ট বিভক্তি সংখ্যা ছাপা থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান।

অন্যদিকে, আউটার ফয়েলে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে আলাদা ঘরে ছাপা থাকবে। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

ব্যালটে টিক বা সিল নয়, দিতে হবে স্বাক্ষর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা সাধারণ নির্বাচনের মতো ব্যালটে টিক চিহ্ন বা সিল ব্যবহার করবেন না। ভোট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে প্রথমে কাউন্টার ফয়েলে নিজের নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর আউটার ফয়েলে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হবে। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটকে প্রকাশ্য ভোট বলা হয়। কারণ ব্যালটে ভোটারের স্বাক্ষর থাকায় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব।

কী এই বিভক্তি সংখ্যা ও আউটার ফয়েল? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে ‘বিভক্তি সংখ্যা’ ও ‘আউটার ফয়েল’-এর বিষয়েও ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে যে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া হয়, সেটিই বিভক্তি সংখ্যা।

আর ব্যালট পেপারের যে অংশে কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি থাকে না, সেটিই আউটার ফয়েল হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ব্যালট সংরক্ষণ ও গণনা—সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে।