ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কোনো ধরনের চাপের মুখে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেটি ‘ভয়াবহ ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল কর্তাদের প্রকাশ্য বিরোধিতার মধ্যেই ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিলেন ট্রাম্প। এর আগে উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এক যৌথ খোলা চিঠিতে ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তোলে।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির অধিকার পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল।
তবে বিভিন্ন পক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইনফান্তিনোর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো কারণেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা বিবেচনা করা হলে সেটি হবে ‘ভয়াবহ ভুল’।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার নেতৃত্বেই ইতিহাসের অন্যতম সফল বিশ্বকাপ আয়োজন হয়েছে। তাকে সরিয়ে দিলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলো একই মাত্রায় সফল বা লাভজনক নাও হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিন কনফেডারেশনের বিরোধিতা এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি। যৌথ চিঠিতে তারা অভিযোগ করেছে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং আস্থাভঙ্গের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
চিঠিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ না করা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি মূলত ফিফা সভাপতিকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার বার্তাও এতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোকে সরানো না হলে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে উয়েফা। এফএফই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ফিফার বাইরে আলাদা টুর্নামেন্টের আলোচনা ইনফান্তিনো পদে বহাল থাকলে ফিফার বাইরে আলাদা প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার তিন কনফেডারেশনের মধ্যে এ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, তিন কনফেডারেশনের অভিযোগের পর ফিফা পাল্টা দাবি করেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে দুর্বল করার জন্য একটি ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এফএফই পরিকল্পনা বাতিলের পর ফিফার অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কনফেডারেশনের বিরোধিতা, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন—দুইয়ের মধ্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
