কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩ হাজার

কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩ হাজার

আন্তর্জাতিক

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ আকার ধারণ করা ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৮৬ জনে।

মারাত্মক বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এবারের প্রাদুর্ভাব এরই মধ্যে কঙ্গোর আগের বড় সংক্রমণগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে।

গত ১৫ মে কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এরও কয়েক মাস আগে, জানুয়ারি থেকেই ভাইরাসটির বিস্তার শুরু হয়ে থাকতে পারে। সরকারি কর্তৃপক্ষ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভাইরাসটি ইতোমধ্যে দেশটির ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইবোলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, স্থানীয় নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা। এসব কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বাইরে। ফলে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক এইডস ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভসহ বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক দল এই প্রজাতির বিরুদ্ধে টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঙ্গো কর্তৃপক্ষ সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় মার্ক কোম্পানির তৈরি ‘এরভেবো’ টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণহানি কমাতে টিকাদান, নজরদারি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।