ফরিদা পারভীনের প্রয়াণের এক বছর, নানা আয়োজনে স্মরণ

ফরিদা পারভীনের প্রয়াণের এক বছর, নানা আয়োজনে স্মরণ

বিনোদন

শত শত বছর ধরে বাংলার মাটিতে চর্চিত হয়ে আসছে লালনসংগীত। এই সংগীতের সুর ও দর্শনকে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দিতে যাঁর অবদান অনন্য, তিনি কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন। তাঁর প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের এই দিনেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ খ্যাত এই শিল্পী।

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে ফরিদা পারভীনকে। সকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে তাঁকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান দিয়ে শুরু’। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বংশীবাদক ও ফরিদা পারভীনের জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিম। বিকেলেও তাঁকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের আয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ বেতারেও থাকছে ফরিদা পারভীনকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন। এতে তাঁর জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। বাঁশিতে সঙ্গত করবেন গাজী আবদুল হাকিম।

শুধু গান গাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না ফরিদা পারভীন। লালনসংগীতের সুর, দর্শন ও ভাবধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অচিন পাখি’। প্রায় ১৭ বছর আগে জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলা এই সংগীত একাডেমিতে সন্ধ্যায় থাকছে বিশেষ স্মরণ আয়োজন। সেখানে কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন, সংগীতচর্চা এবং অবদান নিয়ে আলোচনা করবেন।

জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ‘অচিন পাখি’কে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখেছেন ফরিদা পারভীন। গাজী আবদুল হাকিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা লোকগানকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন ছিল সুরের সৌন্দর্যে একের পর এক প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করা।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম ফরিদা পারভীনের। সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি হয় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। নজরুলসংগীত ও ধ্রুপদি সংগীতেও তিনি তালিম নেন। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর সংগীতজীবনের শুরু।

স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থাকার সময় লালনসংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন ফরিদা পারভীন। ১৯৭৩ সালে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মধ্য দিয়ে তাঁর লালনসংগীতের যাত্রা শুরু হয়। পরে খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তিনি লালনগানের তালিম নেন।

১৯৭৬ সালে ‘অচিন পাখি’ শিরোনামে তাঁর প্রথম দীর্ঘ রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর আর থামেননি তিনি। অ্যালবাম, চলচ্চিত্র ও সরাসরি মঞ্চ—সব ক্ষেত্রেই লালনসংগীতকে ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন ফরিদা পারভীন।

নিজের অনন্য গায়কিতে লালনের গানকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শ্রোতার কাছেও এই সংগীতকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলেন তিনি। তাঁর অসাধারণ পরিবেশনের কারণেই শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিতি পান।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। লালনসংগীতের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।