বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল পণ্য প্রদর্শনী মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাজ) ২০২৬ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মিটেক) প্রদর্শনীর ২২তম আসরের উদ্বোধন হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে শনিবার পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ প্রায় ৪ হাজার হালাল পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে।
প্রাণের আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও পানীয়, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট ও বেকারি, কনফেকশনারি, ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট ও ওয়েফারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) সামিয়া চৌধুরী বলেন, এবারের মিহাজে তারা প্রায় ৪ হাজার পণ্য প্রদর্শন করছেন। প্রদর্শনীর শুরু থেকেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাণের পণ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশাল হালাল খাদ্যবাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি, প্রাণের পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা এবং হালাল অর্থনীতিতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনই মেলায় অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য।
রপ্তানি বাড়ানোর প্রত্যাশা মালয়েশিয়ায় প্রাণের পণ্যের পরিবেশক পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া জানান, গতবারের মিহাজ থেকে প্রাণ প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ ২০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাইয়ের বাজারেও প্রাণের পণ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাণ বর্তমানে জাকিম হালাল, ইন্দোনেশিয়ার মুই হালাল এবং বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ ছয়টি সার্টিফিকেশন বোর্ডের সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের ১৪৮টি দেশে খাদ্যপণ্য রপ্তানি করছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাণ ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের খাদ্যপণ্য রপ্তানি করেছে। ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বাজারের মধ্যে রয়েছে। ৪৫ দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) আয়োজনে এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (মাট্রেড) সমন্বয়ে এবারের মিহাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৪৫টি দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন। এতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠান ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০টি বুথে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।
প্রদর্শনী ও বিজনেস ম্যাচিং কর্মসূচি মিলিয়ে এবারের মিহাজে ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিক্রয়মূল্যের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাট্রেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ বলেন, হালাল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে মিহাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন বাজারের সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি প্রদর্শক ও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ পান।
বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছে আরও ছয় প্রতিষ্ঠান এবার মিহাজে প্রাণ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে নিজেদের হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—অ্যাপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, বায়োফার্মা লিমিটেড, ঘরেরবাজার, নওরিশ ফুডস লিমিটেড, প্যারাগন গ্রুপ এবং তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের ছয়টি কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। হালাল সার্টিফিকেশন নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্বের হালাল খাদ্যের বাজারের আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হালাল খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় এ বাজারের পরিধিও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মিহাজে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়ে হালাল পণ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেন। এর ফলে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়।
