মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য আবেদন করেছেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন কে সি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তার পক্ষে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবাধিকার আইনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
আবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তার অসমাপ্ত জবানবন্দি গ্রহণ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলার ১৫তম ও সর্বশেষ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এ সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। পরে অবশিষ্ট সাক্ষ্যের জন্য ৪ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে মঙ্গলবারের তারিখ ঠিক করা হয়। তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, নথি ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে তিনি ট্রাইব্যুনালে বিস্তারিত তুলে ধরছেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার কথা। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবে এবং পরবর্তী ধাপে যুক্তিতর্ক শুরু হবে।
### জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়—এমন অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে তথাকথিত ‘বনদস্যু দমন অভিযানের’ নামে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য বিচারাধীন এবং ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়ের আগে এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই দিন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এখন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ হওয়ার পথে। এরপর মামলাটি সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্কের ধাপে এগিয়ে যাবে।
