বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনের জাহাজভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ায় তেলবাহী ‘ছায়া বহরের’ জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় কমানো এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ছায়া বহর বলতে সাধারণত এমন জাহাজগুলোকে বোঝায়, যেগুলো বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের তেল পরিবহনের সঙ্গে এসব জাহাজের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
কী কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চিন্তা?
মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অনুমতি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ব্যবহারের জন্য কোম্পানিগুলোকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনুমোদন নিতে হতে পারে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজের সংকট কমিয়ে পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা চললেও রাশিয়া ও ইরানের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিষয়টিকে দেখার সুযোগ নেই। প্রস্তাবটি মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজে অন্য নিষেধাজ্ঞামুক্ত তেল পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে।
রাশিয়ার ডিজেল নিয়ে সিদ্ধান্তের পর নতুন উদ্যোগ
সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ছায়া বহরের জাহাজ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলো।
রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্য।
তাঁদের আশঙ্কা, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে ছাড় দিলে দেশটির সরকার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
জাহাজভাড়া বাড়ায় চাপে মার্কিন তেলের বাজার
গবেষণা সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ছায়া বহরের জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রশাসনের আলোচনার কথা তুলে ধরেন।
বিশ্ববাজারে জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তেল পরিবহনের খরচও বাড়ছে। এতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ও চাহিদার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু জাহাজ বৈধভাবে নিষেধাজ্ঞামুক্ত পণ্য পরিবহনের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ উদ্যোগে পরিবহন ব্যয় কতটা কমবে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের ওপর।
এখন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনাধীন উদ্যোগ। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
