রাহুল গান্ধীর আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাড়া, জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস

রাহুল গান্ধীর আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাড়া, জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস

আন্তর্জাতিক

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ব্যাপকভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতাদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের জবাব চেয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোকে বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আগে দায়ের করা মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ

রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতার অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

আবেদনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।

বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য প্রকাশের দাবি

আবেদনে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম ও বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

আবেদনকারীরা অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সংশোধনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ নিরীক্ষা চেয়েছেন।

তাঁদের আরও দাবি, যেসব যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

একাধিক মামলার সঙ্গে যুক্ত হবে আবেদন

বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে আগে থেকেই একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। নতুন আবেদনগুলোও সেসব মামলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।

এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা এবং ভোটারদের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোটের নেতারা এর আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনে যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এখন নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবের পর মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে।