ব্রহ্মপুত্রে জেলের জালে ৯০ কেজির বিশাল বাগাড়, বিক্রি ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়

ব্রহ্মপুত্রে জেলের জালে ৯০ কেজির বিশাল বাগাড়, বিক্রি ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়

দেশ জুড়ে রংপুর

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলে নরেন্দ্র নাথের জালে ধরা পড়েছে ৯০ কেজি ওজনের একটি বিশাল বাগাড় মাছ। পরে মাছটি কিনে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন এক মাছ ব্যবসায়ী। প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মাছটি বিক্রি করা হয়।

গত শুক্রবার চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি বাজারে তোলা হলে বিশাল আকৃতির মাছটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। শনিবার মাছটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।

### ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কেনা, বিক্রি ১ লাখ ৩৫ হাজারে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদে জাল ফেলেন জেলে নরেন্দ্র নাথ। তাঁর জালে ৯০ কেজি ওজনের বাগাড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে থানাহাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাজু মিয়া মাছটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নেন।

সন্ধ্যায় চিলমারীর পাম্পমোড় এলাকায় মাছটি কেটে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। এতে মাছটির বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী সাজু মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে জেলেদের জালে বাগাড়, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছের বাজারে চাহিদাও বেশি।

তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে আগাম অর্ডার দিয়ে বড় মাছ কেনেন। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাছ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

### বাগাড় সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় বাগাড় মাছকে মহাবিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, বাগাড় শিকার ও বিক্রির বিষয়ে আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে বলে সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আইন প্রয়োগের ঘাটতির কারণে প্রকাশ্যে এ মাছ ধরা ও বিক্রির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

চিলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. এমদাদুল হক বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে বড় বাগাড় মাছ ধরা পড়ার খবর তিনি শুনেছেন। নদে দেশি বড় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।