৬১ বছর বয়সেও শরীরচর্চা ও ফিটনেস নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। গতকাল ২ নভেম্বর জন্মদিনে প্রকাশিত ‘কিং’ সিনেমার প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’-তে অভিনেতার শারীরিক গঠন ও অ্যাকশন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভক্তরা।
গানটিতে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যের পাশাপাশি অ্যাকশন দৃশ্যেও দেখা গেছে শাহরুখকে। বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে শরীরচর্চা ও ফিটনেস ধরে রাখছেন বলিউড বাদশাহ? বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও দৈনন্দিন রুটিনের নানা দিক।
দিনে একবার খাবার খান শাহরুখ?
শাহরুখ খানের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় দিনে একবার খাবার খাওয়ার অভ্যাস। ২০২৪ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, সাধারণত দিনে একবার খাবার খান তিনি।
তবে এটি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণের জন্য নয়, বরং তার ব্যক্তিগত অভ্যাস। তার খাবারের তালিকায় থাকে অঙ্কুরিত শস্য, গ্রিলড চিকেন, ব্রকলি ও সামান্য ডাল। রেডিও উপস্থাপক দেবাঙ্গনার সঙ্গে এক আলাপেও সাধারণ ও পরিচিত খাবারের প্রতি নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন শাহরুখ।
তবে পছন্দের খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখেন না অভিনেতা। অন্যের বাড়িতে গেলে বিরিয়ানি, রুটি, পরোটা, ঘি-সমৃদ্ধ খাবার ও লাচ্ছিও উপভোগ করেন তিনি।
প্রতিদিনের ব্যায়ামে কতটা সময় দেন?
শরীরচর্চার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে কাটান না শাহরুখ। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন। এমনকি গভীর রাতে শুটিং শেষে বাড়ি ফিরেও ব্যায়ামের জন্য সময় বের করেন। তার ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক প্রশান্ত সাওয়ান্ত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, তাদের ব্যায়ামের সেশন সাধারণত ৪৫ মিনিটের হয়ে থাকে।
সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন অনুশীলন করেন তারা। প্রতিদিন শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যায়ামে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমেও সক্রিয় থাকতে পছন্দ করেন শাহরুখ।
করোনাকালে ফিটনেসে বেশি মনোযোগ
শাহরুখের ফিটনেসের প্রতি মনোযোগ আরও বেড়েছিল করোনাকালে। ২০২৪ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, লকডাউনে কাজের ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় শরীরচর্চায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
তখন নিজের জন্যও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এরপর ‘পাঠান’ ও ‘জাওয়ান’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় তার শারীরিক পরিবর্তন দর্শকের নজর কাড়ে। সাম্প্রতিক ‘তু মিল যায়ে’ গানেও তার ফিটনেসের ঝলক দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের শরীরচর্চা ও শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন
শাহরুখের প্রশিক্ষক প্রশান্ত সাওয়ান্তের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে ফিটনেসের বিষয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন অভিনেতা।
শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা ব্যায়ামের পাশাপাশি চোটের বিষয়টি মাথায় রেখে অনুশীলন ও পুনরুদ্ধারের দিকেও নজর দেওয়া হয়। একই ধরনের ব্যায়াম প্রতিদিন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিনে পরিবর্তন আনা হয়।
তার ফিটনেসের পেছনে কোনো এককালীন পরিবর্তনের চেয়ে দীর্ঘদিনের নিয়মিত অনুশীলনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের সময় নিয়েও বদলাচ্ছেন অভ্যাস
শাহরুখের ঘুমের সময়সূচি বেশ অস্বাভাবিক। দ্য গার্ডিয়ানকে ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, সাধারণত ভোর ৫টার দিকে ঘুমাতে যান। শুটিং শেষে রাত ২টার দিকে বাড়ি ফিরে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ব্যায়াম করে ঘুমাতে যান তিনি।
তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুবাইয়ের এক অনুষ্ঠানে অভিনেতা জানান, আগে কখনো কখনো চার ঘণ্টা ঘুমালেও এখন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। ব্যায়ামের পর পেশির পুনরুদ্ধারের জন্য আরও বিশ্রাম নেওয়ার গুরুত্বও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই শাহরুখের অনিয়মিত ঘুমের রুটিনকে সাধারণ মানুষের জন্য অনুসরণযোগ্য অভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সিনেমার চরিত্রের জন্যও ফিটনেস
শাহরুখের শরীরচর্চার সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তুতিরও সম্পর্ক রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানিয়েছিলেন, অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই অ্যাকশন হিরো হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। সে কারণেই শরীর গঠনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
‘পাঠান’ ও ‘জাওয়ান’-এর মতো সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর জন্যও শারীরিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে শাহরুখের ফিটনেস ধরে রাখার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের করার অভ্যাস।
দিনে একবার খাওয়া বা কম ঘুমানোর মতো ব্যক্তিগত অভ্যাসকে ফিটনেসের নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধারাবাহিকতা ও নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নেওয়াই তার রুটিনের উল্লেখযোগ্য দিক।
