আশুলিয়ায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অ'ব'রো'ধ, ৭০ কারখানায় ছুটি

আশুলিয়ায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অ’ব’রোধ, ৭০ কারখানায় ছুটি

জাতীয় দেশ জুড়ে

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ির কাচও ভেঙে যায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় আশুলিয়ার ৭০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত সেখানে নতুন করে শ্রমিক আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে।

পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙচুর

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। পরে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন তাঁরা। কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ার পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় ভালো। তবে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় কিছু এলাকায় কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। আশুলিয়ার মোট ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টিতে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, সকালে জামগড়া এলাকায় কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কিছু ব্যক্তি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করার পর তাঁরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

কারখানার ফটক ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ‘ফেব্রিকা নিট কম্পোজিট’ কারখানার সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানার দুটি ফটক ভাঙচুর করেন। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায়ও ছুটি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, আগের দিনও কিছু লোক কারখানার সামনে এসেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তাঁরা দলবদ্ধভাবে এসে দুটি ফটক ভাঙচুর করেন। শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

 আন্দোলনে না গেলে মারধরের অভিযোগ

কারখানা ছুটির পর আন্দোলনে অংশ না নিলে মারধরের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। জামগড়া এলাকার একটি কারখানার এক শ্রমিক জানান, সকালে কাজ শুরু করার পর বাইরে থেকে কিছু লোক এসে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

ওই শ্রমিকের অভিযোগ, ছুটির পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ না দিলে মারধরের ভয় দেখানো হয়। আগের দিনও তাঁকে মারধরের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সাভার-আশুলিয়ায় পুলিশ ও বিজিবির টহল

সকালে সাভারের রেডিও কলোনি ও হেমায়েতপুর এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কারখানার সামনে এবং আশপাশের এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খান জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত কোথাও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

টানা পাঁচ দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত নতুন করে কোনো শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে। আগে থেকে ছুটি ঘোষণা করা কিছু কারখানা বৃহস্পতিবারও বন্ধ ছিল।

গাজীপুর শিল্প-পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। অনেক কারখানায় আগে থেকেই ছুটি ঘোষণা করায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে।

গাজীপুরে ১০ প্লাটুন আনসার মোতায়েন

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার ছয় প্লাটুন এবং বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে আরও চার প্লাটুন সদস্য পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা কাজ করছেন।