ইরান ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ট্রাম্পের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নতুন করে বিমান হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। একই সময়ে বিভিন্ন দেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া গেলে তা মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। তবে ট্রাম্প এখনো নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বেইজিং ছাড়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রস্তাবটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটাই যদি পছন্দ না হয়, তাহলে আমি সেটি সরিয়ে দিই।”
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কারণ, তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার চীন, যা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনা হলেও তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য তিনি বেইজিংকে কোনো অনুরোধ করেননি।
এদিকে, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে, যদিও নতুন অভিযানের ক্ষেত্রে ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতির পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য হামলার জন্য আগামী সপ্তাহে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ বিষয়ে একমত যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেওয়া যাবে না এবং হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দিতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, শি চিন পিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং চীনও প্রণালিটি খোলা রাখার পক্ষে।
এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতেও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি চিন পিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
