মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং নতুন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে।
রোববার (১৪ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যা এই অঞ্চলে শান্তি আনতে পারে। এটি নষ্ট করে ফেলবেন না।”
তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানের কিছুক্ষণ আগেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলার কথা জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের দাবি, উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই বৈরুতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেবে না ইসরায়েল।”
অন্যদিকে ইরান এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের উপপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, বৈরুতে হামলার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির শত শত কোটি ডলারের সম্পদ এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চুক্তিটি দ্রুত স্বাক্ষর হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য এই চুক্তিকে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
