শরীরের কোথাও কেটে গেলে সাধারণত কিছু সময়ের মধ্যেই রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি ওষুধ বা ব্যান্ডেজ ব্যবহারের পরও দীর্ঘ সময় রক্তপাত চলতে থাকে, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় হিমোফিলিয়া। এটি একটি জটিল বংশগত রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত না করলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি প্রাণহানির কারণও হতে পারে।
হিমোফিলিয়া কী?
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য শরীরে কিছু বিশেষ প্রোটিন থাকে, যেগুলোকে ‘ক্লটিং ফ্যাক্টর’ বলা হয়। হিমোফিলিয়া রোগীদের শরীরে এই ক্লটিং ফ্যাক্টর, বিশেষ করে ফ্যাক্টর-৮ অথবা ফ্যাক্টর-৯-এর ঘাটতি থাকে। ফলে শরীরের কোথাও কেটে গেলে সহজে রক্ত বন্ধ হয় না।
এই রোগের কারণে শুধু বাহ্যিক রক্তপাত নয়, শরীরের ভেতরেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। এতে লিভার, কিডনি বা জয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হিমোফিলিয়ার লক্ষণ
হিমোফিলিয়া আছে কি না তা বোঝার জন্য কিছু সাধারণ লক্ষণের দিকে নজর রাখা জরুরি—
১. অস্বাভাবিক রক্তপাত:
সামান্য কাটাছেঁড়া বা আঘাতের পর দীর্ঘ সময় রক্তপাত হওয়া।
২. সহজে কালশিটে পড়া:
বড় কোনো আঘাত ছাড়াই শরীরে নীলচে বা কালচে দাগ দেখা দেওয়া।
৩. গাঁটে ব্যথা ও ফোলা:
হাঁটু, কনুই বা গোড়ালিতে ব্যথা, ফোলা এবং নড়াচড়ায় সমস্যা হওয়া।
৪. মাড়ি ও নাক দিয়ে রক্তপাত:
দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া অথবা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
৫. অন্যান্য জটিলতা:
মল-মূত্রের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, বমি ভাব বা দুর্বলতা অনুভব করা।
চিকিৎসা ও করণীয়
হিমোফিলিয়া পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। সাধারণত নারীরা এই রোগের বাহক হন এবং পুরুষদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে রোগীকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় ক্লটিং ফ্যাক্টর ইনজেকশন দেওয়া হয়, যাতে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সতর্কতায় যা করবেন
১. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না।
২. খেলাধুলা বা ভারী কাজের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
৩. দাঁত ও মাড়ির নিয়মিত যত্ন নিন।
৪. শরীরে অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সময়মতো হিমোফিলিয়া শনাক্ত হলে জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই অস্বাভাবিক রক্তপাতকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
