রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে (১৯) এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক ফরিদউজ্জামান আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ঘটনাটি সংঘবদ্ধভাবে ঘটানো হয়েছে। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, এটি অপহরণ নয় বরং প্রেমঘটিত ঘটনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নিজ ইচ্ছায় চলে গেছে এবং এর পক্ষে ভিডিও ও ফোনকলের রেকর্ড রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, মেয়েটিকে পরে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।
অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত ও চাঞ্চল্যকর অপহরণ ঘটনা। পলাতক আসামিদের শনাক্ত, ব্যবহৃত যানবাহন ও অন্যান্য তথ্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল বিকেলে উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে বাবা কামরুজ্জামান তার মেয়ে জেরিন জামান তুবার (১৪) সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের একটি মোড়ে পৌঁছালে ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাবার সামনে থেকেই মেয়েটিকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তুলে নেয় এবং মোটরসাইকেলের পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ১ মে গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
