যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে যেসব বিদেশি গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) এ ঘোষণা দিয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএসসিআইএস বলছে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার অংশ এবং দীর্ঘদিনের আইনি ‘ফাঁকফোকর’ বন্ধ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নীতির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও সহায়তা সংস্থাগুলো।
বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএস-এর সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা ডাগ র্যান্ড এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য হলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ কঠিন করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ সীমিত করা।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৬ লাখ মানুষ প্রতি বছর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। নতুন এই সিদ্ধান্ত তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি ইউএসসিআইএস। আবেদনকারীদের নিজ দেশে গিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে অপেক্ষা করতে হবে কি না কিংবা বর্তমানে যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের ওপর এ নীতির প্রভাব পড়বে কি না— এসব বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি।
সমালোচকদের মতে, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীরা দেশটির ভেতর থেকেই ‘স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতেন। অনেকের জন্য নিজ দেশে ফেরা নিরাপদ নয়, আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাস কার্যকর না থাকায় আবেদন প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, ইউএসসিআইএস কয়েক দশক ধরে চালু থাকা স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।
তার মতে, নতুন এই নীতির প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে বিবাহিত ব্যক্তি, মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসী, ওয়ার্ক ভিসাধারী পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং ধর্মীয় ভিসাধারীদের ওপরও।
এছাড়া অনেক দেশে মার্কিন দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য এক বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
