উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি ও আল জাজিরা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ড্রোন পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট রাডার, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোন আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল। হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘাঁটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসির দাবি, উপসাগরের সিররি দ্বীপে তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এ আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব হামলার উৎস সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতা চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।
