ইরানের জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় সরব হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক পোস্টে বাঘাই একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে স্কট বেসেন্টকে ইরানের সম্পদ জব্দের বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে এবং হালকা মেজাজে মন্তব্য করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি সম্মান দেখানোর পরিবর্তে ইরানের অর্থ আটকে রাখা অন্যায্য এবং আগ্রাসী আচরণের শামিল।
সমালোচনার অংশ হিসেবে তিনি ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘ম্যাকবেথ’ থেকে একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “এখন সে বুঝতে পারছে, তার উপাধি তার গায়ে ঠিকভাবে মানাচ্ছে না; বরং সেটা তার চারপাশে ঢিলেঢালা হয়ে ঝুলছে—যেমন কোনো দৈত্যের পোশাক একজন বামন চোরের গায়ে ঝুলে থাকে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে বাঘাই ইঙ্গিত করেছেন যে ক্ষমতা বা পদে থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি সেই দায়িত্বের যোগ্যতা না রাখে, তবে সেই ক্ষমতা তার জন্য বেমানান হয়ে ওঠে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তেহরানের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশকে দুর্বল করে।
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জব্দকৃত অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সম্পদ জব্দ এবং তা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
