প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী তহবিল কর্তনের পর জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন অনুদান পাচ্ছে। এই সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৭ জুন) ডব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন এ তহবিল বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা ক্ষুধা মোকাবেলা এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংস্থাটির মতে, এই অর্থের মাধ্যমে লেবানন, হাইতি এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মতো সংকটাপন্ন অঞ্চলে খাদ্য মজুদ বৃদ্ধি, নগদ সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, নতুন তহবিল তাদের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।
এমন এক সময়ে এই অনুদান ঘোষণা করা হলো, যখন বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএফপির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তবে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংস্থাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান অর্ধেকেরও বেশি কমে প্রায় ২০০ কোটি ডলারে নেমে আসে।
ডব্লিউএফপি বলছে, নতুন অর্থায়ন সংকটকবলিত অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ আগাম মজুদ রাখা, নগদ সহায়তা বাড়ানো এবং মানবিক সরবরাহ চেইন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে পরিবর্তন এবং ব্যয় সংকোচনের কারণে ২০২৫ সালে জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা তহবিল ২০২৪ সালের ১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৫ সালে প্রায় ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফকে ২১৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেয়।
