২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক ও বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও তৎকালীন মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, বেনজীর আহমেদ, ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, শাহরিয়ার কবির, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ আরও অনেকে।
এছাড়া সাবেক ও তৎকালীন র্যাব, পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বর অভিযান
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালায়। এতে গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু হলো।
